প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 7, 2026 ইং
দুই বছরের যন্ত্রণা শেষে হাসপাতালের বেডে ফালু মিয়ার মুখে হাসি

মোহাম্মদ আদনান মামুন, শ্রীপুর, গাজীপুর-
জীবনের অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাইছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। হাসপাতালের বেডে শুয়ে কথাগুলো বলছিলেন ৭৬ বছর বয়সী ফালু মিয়া। কিছুদিন আগেও যন্ত্রণায় কাতর হয়ে দিন কাটত তাঁর। অসহ্য ব্যথায় কান্নাই ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। অথচ এখন সেই মুখেই স্বস্তির হাসি।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বদনীভাঙ্গা গ্রামের আফসার উদ্দিনের ছেলে ফালু মিয়া। হতদরিদ্র পরিবারের এই বৃদ্ধের সংসার চলে কখনো খেয়ে, কখনো না খেয়ে। দুই বছর আগে তাঁর শরীরে বাসা বাঁধে হার্নিয়া। চিকিৎসা করানোর ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্য ছিল না। অর্থের অভাবে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁর শারীরিক কষ্ট।
চিকিৎসার জন্য অনেকের কাছে গিয়েছেন, সাহায্য চেয়েছেন। কিন্তু অর্থের সংস্থান হয়নি। এমনকি প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার টাকাও জোগাড় করতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে চিকিৎসার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন ফালু মিয়া।
তাঁর অসহায়ত্বের বিষয়টি উপজেলা বিএনপি নেতা এস এম মাহফুল হাসান হান্নানের মাধ্যমে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর নজরে আসে।
বিষয়টি জানার পর ফালু মিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য।
এরপর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ফালু মিয়াকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্ত নেন অস্ত্রোপচারের।
সোমবার সকাল ১০টায় সার্জারী বিভাগের কনসালটেন্ট ডাক্তার আহমেদ কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক এ বৃদ্ধের হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করা হয়। সফল অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
অসুস্থতার দীর্ঘ দুই বছর যেন হঠাৎ করেই পেছনে ফেলে এসেছেন ফালু মিয়া। যন্ত্রণায় যে মানুষটির চোখে থাকত পানি, সেই চোখেই এখন বেঁচে থাকার স্বপ্ন।
ফালু মিয়া বলেন, “কত জনের কাছে ঘুরলাম, কত সাহায্য চাইলাম। কেউ আসল না। ওষুধের টাকাও জোগাড় করতে পারিনি। তাই দুই বছর যন্ত্রণা আর কান্নাকাটিতে কাটছে। আমি যে বাঁচব, সেটাই বিশ্বাস হচ্ছিল না। অপারেশনের পর এখন মনে হচ্ছে, আরও কয়েক বছর বাঁচতে পারব।”
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, “মাননীয় এমপি মহোদয়ের নির্দেশে ফালু মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞ সার্জন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে তাঁর হার্নিয়া অপসারণ করেন।”
তিনি আরো বলেন, “শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার এটাই প্রথম। অসহায় ও সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে আমাদের সক্ষমতার মধ্যে থাকা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার এখানেই করার চেষ্টা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।”আমাদের মূল লক্ষই সরকারী স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bangladeshexpress24